সম্প্রতি তামিমা তাম্মি নামে এক নারীকে বিয়ে করেছেন আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসেন। তাদের এই বিয়ের পর থেকেই তামিমাকে নিয়ে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে আগের স্বামী রাকিবকে ডিভোর্স না দিয়েই নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এধরণের ঘটনা ব্যতিক্রম হলেও বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে অন্যের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার রীতি প্রচলিত। আজকের আয়োজনে থাকছে এমনই কিছু দেশের পরিচিতি:

নাইজার: মূলত আফ্রিকা মহাদেশের তিনটি দেশে অন্যের বউ নিয়ে পালানোর উৎসব পালিত হয়। এমনকি দেশগুলোতে প্রায়ই কনে অপহরণের নামে ঘটে ধর্ষণের মতো ঘটনা। এদের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের যাযাবর উপজাতি ওডাবে এ রীতি মেনে আসছে যুগ যুগ ধরে। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে অন্যের বউকে চুরি করে পালায় সেখানকার পুরুষরা। টানা ৭ দিন ধরে চলে অন্যের বউকে চুরির উৎসব। যে পুরুষ অন্যের বউকে চুরি করবেন সে উৎসবে যোগ দেন তাদের স্ত্রীরাও। ওই উৎসবে চলে খাওয়া-দাওয়া ও নাচ-গান। যেখানে নিজেদের পছন্দমতো পুরুষ সঙ্গীও বাছাই করে নিতে পারেন নাইজারের নারীরা। নিজেদের শারীরিকভাবে যোগ্য প্রমাণ করতেই এমন উৎসবে অংশ নেয় সেখানকার পুরুষরা।

রুয়ান্ডা: রুয়ান্ডার বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রচলিত নববধূ-অপহরণের ঘটনা। এক্ষেত্রে অপহরণকারীরা তাদের পছন্দসই নারীকে নিজ বাড়ি থেকে বা রাস্তা থেকে কিডন্যাপ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রুয়ান্ডার প্রচলিত রীতি অনুসারে, অপহরণ হওয়া নারী যদি ধর্ষণের পর গর্ভধারণ করেন সেক্ষেত্রে ওই নারীর কদর আরও বেড়ে যায়। তখন ঘটা করে বিবাহের অনুষ্ঠান করে থাকেন বরের পরিবার। এরপর কনের মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন অপহরণকারী ও তার পরিবার। এমন সময় বরের পরিবার একটি গাভি, নগদ অর্থ ও দামি উপহার ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিয়ে থাকে কনের পরিবারকে।

মিশর: মিশরে খ্রিস্টান বিবাহিত বা অবিবাহিত সব নারীকেই ইসলামে দীক্ষিত করতে পুরুষরা কনে অপহরণ করেন। তারপর তাদের বিয়ে করেন মুসলিম পুরুষরা। এক্ষেত্রে নারীদের ধর্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ সাঈদ হুসেন খলিল এল-সিসি’র সালাফিস্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এমন রীতির প্রচলন করেন।

ইথিওপিয়া: ইথিওপিয়ার ২০০৩ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী সেখানে প্রায় ৬৯ শতাংশ নববধূ অপহরণর ঘটনা ঘটে। সাধারণত ইথিওপিয়ায় কোনও পুরুষ যদি অন্যের বউকে অপহণ করতে চান তাহলে তিনি কাজটি করেন বন্ধুদের সমন্বয়ে। এক্ষেত্রে ঘোড়া ব্যবহার করে থাকেন অপহরণের কাজে। সেখানকার এ রীতি পালন করা হয় প্রকাশ্যে। নারীকে অপহরণ করে নিজ বাড়িতেই নিয়ে যেতে পারবেন ওই পুরুষ। গর্ভবতী না হওয়া পর্যন্ত পুরুষটি পরিবারের সামনেই ধর্ষণ করেন ওই নারীকে। এরপর তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। আর যদি কোনও কারণে ওই নারী গর্ভবতী না হন তাহলে স্ত্রীর মর্যাদা দেন না ধর্ষণকারী পুরুষ। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইথিওপিয়ার অন্তত ১০ থেকে ১৩ শতাংশ বিবাহ এমন অপহরণের মাধ্যমে ঘটে।

কিরগিস্তান: কিরগিস্তানে কনে অপহরণ ‘আলা কচু’ নামে পরিচিত। স্ত্রী গ্রহণের একটি স্বীকৃত এবং সাধারণ নিয়ম আলা কচু । ২০১৫ সালে কিরগিস্তানের এক সমীক্ষায় উঠে আসে, সেখানকার অপহরণের শিকার হয়ে বিবাহে আবদ্ধ হন প্রায় ১৪ শতাংশ নারী। সেখানে বউ চুরির ঘটনা ৭৫-৮০ শতাংশেরও বেশি বলছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলো। তবে তবে ২০১৩ সালে এমন রীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিরগিস্তানে। সেখানে কনে অপহরণে দোষীর সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছেরের কারাদণ্ড।

শুধু এ কয়েকটি দেশ নয় কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, দাগেস্তান, চেচনিয়া, ইঙ্গুশেটিয়াসহ, আজারবাইজানসহ অনেক দেশেই কনে অপহরণের ঘটনা ঘটে। এমনকি জর্জিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার হামং সংস্কৃতিতেও এই রীতি প্রচলিত

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *